ঔপন্যাসিক আকবর হোসেনের আজ ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী

0
3

আ‌রিফ হো‌নসন নি‌শির :: আজ ০২/০৬/২০২০ খ্রিস্টাব্দ। আজ গুণীজন বিখ্যাত বাঙালি কথাসাহিত্যিক ঔপন্যাসিক আকবর হোসেনের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী।

জাতীয় কবি পরিষদ (জাকপ) পরিবারের পক্ষে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে
#বিনম্র_শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে‌ছে। এ‌বি‌সি বাংলা টে‌লি‌ভিশন ও চলমান দেশ প‌ত্রিকা প‌রিবা‌রের পক্ষ থে‌কে তাঁর প্রতি বিনম্র শদ্ধা জানারনা হ‌য়ে‌ছে।

আকবর হোসেন,
জন্মঃ ১ অক্টোবর ১৯১৭ ইং
(কুমারখালী, কুষ্টিয়া)
মৃত্যুঃ ২ জুন ১৯৮১ ইং

গুণী এবং একজন বিখ্যাত কথাশিল্পী আকবর হোসেন। সাহিত্যে শব্দ বা কথার ব্যবহার যে একটি শৈল্পিক বিষয় হতে পারে, তা দেখিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে এই গুণী থেকে গেছেন অবহেলিত। এমনকি বাংলা একাডেমিও এই কথাশিল্পীর শিল্পকর্ম সংরক্ষণে কখনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রায় অপরিচিত এই সাহিত্যিক।

মাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশুনাকালীন সময় থেকেই সাহিত্য চর্চা করতেন আকবর হোসেন। শিক্ষা জীবনের অবসান ঘটিয়ে পুরোদমে সাহিত্য চর্চা শুরু করেন তিনি।
আকবর হোসেন কুমিল্লা হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে কলকাতা রিপন কলেজ থেকে বি,এ ডিগ্রি নিয়ে চাকুরী জীবনের সূচনা করেন। দীর্ঘদিন তিনি সরকারি চাকুরিতে কর্মরত ছিলেন। ছাত্রাবস্থায়ই তার লেখালেখির শুরু। “সন্ধানী” “শিক্ষা” “দৈনিক আজাদ” ও “নবযুগ” ইত্যাদি পত্র-পত্রিকায় লেখা প্রকাশের ভেতর দিয়ে তার সাহিত্য প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
তার প্রথম উপন্যাস ‘অবাঞ্চিত’ বিপুল পাঠকপ্রিয়তা লাভ করে। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন প্রকৃতি ও অন্তরের টানে। তার লেখায় সমাজ ও সংসার জীবন, পারিপার্শ্বিকতা আর তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ধরা দিয়েছে সাবলীলভাবে। গ্রামীণ সমাজ সংস্কার, সাধারণ মানুষের আশা আকাঙ্খা, নাগরিক জীবনের দুঃখ-বেদনা, সমসাময়িক জীবনচিত্র, সমকালীন চিমত্মা-চেতনা, চারপাশের চেনাজগত, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আমাদের অহংকার ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রেম ও রোমান্টিকতা প্রভৃতি দারুন মুন্সিয়ানার সাথে উপস্থাপিত হয়েছে আকবর হোসেনের উপন্যাস ও লেখনিতে।

তার ভাষার সাবলীলতা কাব্যময়তা, গতিময়তা এবং শৈল্পিক সন্নিবেশ উপন্যাসগুলোকে জনপ্রিয় করেছে। সময়কে সংরক্ষণ করার শৈল্পিক প্রয়াসে তিনি সফল, শিল্পী হিসেবে নিজ কর্তব্য পালনে তিনি একনিষ্ঠ। বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে নীরবে নিরলসভাবে সাধনা করে গেছেন এই নিভৃতচারী। আজ এদেশে উপন্যাস, সাহিত্যে ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তার শীর্ষে যারা অবস্থান করছেন আকবর হোসেন এদের চেয়ে বেশি নিরেট ও শক্তিশালী ঔপন্যাসিক ছিলেন। অথচ পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের পাঠকমনে কাঁপন ধরিয়ে দেয়া কীর্তিমান এই ঔপন্যাসিক আজও এদেশ অবমূল্যায়িত রয়ে গেছেন।

সংস্কৃতির রাজধানী খ্যাত কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর মাটি ও মানুষ শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে সব সময় গৌরবময় ভূমিকা রেখে আসছেন। কুমারখালীর শিলাইদহে এসে সাহিত্য চর্চা করেছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এছাড়া বাউল সম্রাট লালন ফকির, বিষাদসিন্ধু রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন, কাঙ্গাল হরিণাথ মজুমদার, কবি ডক্টর হরগোপাল বিশ্বাস, বাউল সাধক গগন হরকরা, কবি আজিজুল হক, ড. আবুল আহসান চৌধুরী, শিশু সাহিত্যিক জোবেদা খানম, কবি জলধর সেন, বিপ্লবী নেতা কাজী মিয়াজান, বাঘা যতীন (যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়), কলকাতার বিখ্যাত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, ছড়াকার নাসের মাহমুদ, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক রকিবুল হাসান কুমারখালীর অহংকার। এদের মধ্যে বাঘা যতিন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও রকিবুল হাসানের জন্ম গ্রামে।

এই কুমারখালীরই আরেক রত্ন আকবর হোসেন। দেশের শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতির ইতিহাসে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে বিচরণ করেছেন তিনি। কুমারখালীর আরো এক অলংকার নজিবর রহমান সাহিত্যরত্নের পরে পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে আকবর হোসেনই সবচেয়ে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক ছিলেন।

ছাত্রাবস্থায়ই আকবর হোসেন লেখালেখি শুরু করেন। তার সাহিত্যচর্চা শুরু হয়েছিল কবিতার মাধ্যমে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কথাশিল্পী হিসেবেই তিনি পরিচিত হন। সন্ধানী, শিক্ষা, দৈনিক আজাদ ও নবযুগসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখা প্রকাশের ভেতর দিয়ে তার সাহিত্য প্রতিভার উন্মেষ ঘটে। তার প্রথম উপন্যাস ‘অবাঞ্ছিত’ প্রকাশ হয় ১৯৫০ সালে, যা অল্প সময়ে পাঠকপ্রিয়তা লাভ করে।

আকবর হোসেনের বাড়ি ছিল গড়াই তীরবর্তী কয়া গ্রামের কয়ারঘাটের কাছাকাছি। নদীর সৌন্দর্য, খোলামেলা প্রাকৃতিক পরিবেশ, গ্রামীণ জীবনযাপন তার বালক-মনে দারুণভাবে প্রভাব ফেলেছিল, যা তার লেখক সত্তার উন্মেষে সাহায্য করে। তার জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা ধরা হয় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ। বলা হয়ে থাকে, কবিগুরুর সাক্ষাৎ-স্মৃতি তার লেখক সত্তাকে পরিপক্ব করে তুলতে সাহায্য করেছিল।

তার রচিত ‘মেঘ বিজলী বাদল’ উপন্যাস নিয়ে ১৯৮২ সালে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন কাজী নূরুল হক।

এই ঔপন্যাসিকের যাবতীয় সৃষ্টিকর্ম জাতীয় ভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রকাশিত গ্রন্থঃ
উপন্যাস-
অবাঞ্ছিত (১৯৫০), কি পাইনি (১৯৫২), নীলাঞ্জনা, প্রাণবসন্ত, উপল উপকূলে, হৃদয় উপবনে, মোহমুক্তি (১৯৫৩), ঢেউ জাগে (১৯৬১), আলোছায়া (১৯৬৪), দু’দিনের খেলাঘরে (১৯৬৫), মেঘ বিজলী বাদল (১৯৬৮), নতুন পৃথিবী (১৯৭৪), দুষ্টক্ষত, আভা ও তার প্রথম পুরুষ।

মৃত্যুঃ
আকবর হোসেন তার সমসাময়িক জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ছিলেন। তিনি ২ জুন, ১৯৮১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি এই শব্দযাদুকরকে।

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট

Print Friendly, PDF & Email