বিশেষ কোটায় বন্দি রেলওবাসের টিকিট

0
167

স্টাফ রিপোটার :
আজ শনিবার ফরজের নামাজ আদায় করে ভোর ৪টায় এসে দাঁড়িয়েও রাজশাহীর পদ্মা এক্সপ্রেসের টিকিট পেলেন না জিয়া উদ্দিন। তিনি বলেন,আমার জানামতে প্রায় ৯০০ টিকিট দেওয়ার কথা। আমার আগে প্রায় ১৩০ জন লোক ছিল। একেকজনে চারটি করে টিকিট নিলেও আরো টিকিট থাকার কথা।
ভিআইপিদের কি এত টিকিট লাগে? তাহলে আমরা চলাফেরা করব কিভাবে? রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের প্রায় ১৫টি রুটের নিয়মিত ১৩ হাজার ৫৭৭টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ এসএমএস বা ই-টিকিটিং, ভিআইপিদের ৫ শতাংশ, স্টাফ ৫ শতাংশ, রেগুলার কোটা (ইকিউ) সাড়ে ৫ শতাংশ মিলে মোট প্রায় ৪০ শতাংশ টিকিটই বিশেষ কোটায় বরাদ্দ দিতে হয়। ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ট্রেনের ক্ষেত্রেও একইভাবে টিকিট দেওয়া হবে। এদিনই ছিল ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির শেষ দিন। প্রচুর লোকসমাগম হলেও প্রায় সকাল ১০টার ভেতরেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। তবে দিনাজপুর ও নীলফামারীর ৮ নম্বর কাউন্টারে কম্পিউটার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এ লাইনে টিকিট দিতে দেরি হয়। যাঁরা এসএমএস বা ই-টিকিটিংয়ের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করছেন, তাঁরা সারা দিনের যেকোনো সময় এসে টিকিট নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের কোনো ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়নি। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের তূর্ণা-নিশীথা ট্রেনের টিকিটের জন্য জগন্নাথ কলেজের শিক্ষার্থী ফাহাদ লাইনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন গত শুক্রবার  রাত ৯টায়। তবে সঙ্গে তাঁর আরো দুই বন্ধু ছিলেন। তিনি সকাল ৮টায় টিকিট পেয়ে খুশিতে আত্মহারা। ফাহাদ বলেন, ‘বাসে যাওয়ায় ঝুঁকি বেশি।তাই সব সময় ট্রেনেই যাতায়াত করি। কয়েক বন্ধু মিলে ট্রেনে যাওয়ার মজাই আলাদা।টিকিটের দাম বেশি, এই যা সমস্যা।তবে ছাত্রদের জন্য আলাদা ভাড়ার ব্যবস্থা করা উচিত কারন ছাত্ররা বেকার বলেই।একই লাইনে দাঁড়ানো বেসরকারি প্রতিষ্ঠনের কর্মকর্তা আবেদ সালাম টিকিট পেয়েও তা নিলেন না। তিনি বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম এসি বার্থ অথবা চেয়ারের টিকিট। সব সময় এ শ্রেণীতে যাওয়া-আসা করি। এক ঘণ্টার ভেতরে এ টিকিটগুলো শেষ হয়ে গেল, ভাবাই যায় না। তবে বিকল্প হিসেবে এসি বাসেই যাব। সেখানে টিকিট বুকিং করা আছে, তাই অন্য শ্রেণীর টিকিট নিলাম না। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মো. খায়রুল বশীর প্রতিবেদককে বলেন, ‘যাঁরা টিকিট পান না, তারাই নানা রকম অভিযোগ করেন। সীমিত টিকিট দিয়ে সবাইকে তো আর সন্তুষ্ট করা যায় না। প্রচণ্ড চাপে ৮ নম্বর কাউন্টারের কম্পিউটার নষ্ট হয়েছে। স্থায়ী মেরামত করতে হলে ঝামেলা হবে বলে সরানো হয়নি।শুক্রবার উপচে পড়া ভিড় থাকলেও দ্রুতই টিকিট দেওয়া শেষ হয়ে যায়। ভোর ৫টার পর থেকে দাঁড়ানো কেউ টিকিট পাননি বলে জানা যায়। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে টিকিট না পেয়ে অনেকেই ছিলেন অসন্তুষ্ট। তাঁরা বারবার মনিটর ঠিক করার ব্যাপারে তাগিদ দেন। কত টিকিট আছে তা জানতে পারলে তাঁদের কষ্ট করে তিন-চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হতো না বলে বেশ কয়েকজন জানান।
তবে প্রতিদিনের মতো আজ ও শুক্রবার যাত্রীদের অভিযোগ ছিল কেউ কেউ আগে থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। তবে তাঁরা নিজেদের জন্য টিকিট কাটছেন না। এসব টিকিট পরে উচ্চ দামে বিক্রি করা হবে। নীলমণি এক্সপ্রেসের টিকিট না পেয়ে আলম শেখ এমনই অভিযোগ করলেন। তিনি বলেন, ‘সকাল ৭টার দিকে একেবারে সামনের দিকের একজন একবার টিকিট নিয়ে আবার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে যাত্রীদের জেরার মুখে তিনি চলে যান। তবে অনেককেই জায়গা ছেড়ে দিতে দেখা গেছে।
বাসের টিকিট : গাবতলী কাউন্টারে যশোরের শৌখিন পরিবহনের টিকিট নিতে আসা ফরিদ আলী বলেন, চেয়েছিলাম ২৬ অক্টোবরের টিকিট; কিন্তু পেলাম না। তবে পরিচিত লোক ছিল, তাই অনেক কষ্টে ২৫ তারিখের টিকিট জোগাড় করতে পেরেছি। এক দিন আগেই যেতে হবে।’ অভিযোগ রয়েছে, বাসের টিকিটের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে। কিছু টিকিট পরিচিতজনদের জন্য এবং শেষ মুহূর্তে বিক্রির জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। তবে কাউন্টার থেকে যাত্রীদের বলা হচ্ছে, যানজট কম থাকলে আমরা আরো কিছু ট্রিপ যোগ করতে পারব। সে জন্য তাৎক্ষণিক টিকিট দেওয়া হবে। তবে বাস মালিক সমিতির নেতারা টিকিটের দাম না বাড়ানোর ব্যাপারে যোগাযোগমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করলেও এর বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। গাবতলী ও কল্যাণপুরের বেশির ভাগ বাস কম্পানিই এখন ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি ভাড়া নিচ্ছে। ঈদের আগ মুহূর্তে আরো বেশি নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

পেলেন না আমনুর রহমান । তিনি বলেন, আমার জানামতে প্রায় ৯০০ টিকিট দেওয়ার কথা। আমার আগে প্রায় ১৩০ জন লোক ছিল। একেকজনে চারটি করে টিকিট নিলেও আরো টিকিট থাকার কথা। ভিআইপিদের কি এত টিকিট লাগে? তাহলে আমরা চলাফেরা করব কিভাবে?
সময়:৫.১৮মি:ক-শা-আ-

Print Friendly, PDF & Email